দেনা পাওনা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর বাংলা ১ম পত্র

দেনা পাওনা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করতে পোস্ট টি পড়ুন। এই গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন। এই গল্পে কন্যার বিবাহের সময় যৌতুকের ঘটনা তুলেধরেছেন। এই পোস্টে দেনা পাওনা প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর গুলো দেওয়া আছে। প্রশ্ন গুলো পিডিএফ ফাইলে সংগ্রহ করুন এবং সঠিক উত্তর গুলো দেখেনিন।

দেনা পাওনা গল্পের সৃজনশীল

সৃজনশীল ১ঃ 

ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের, গ্রামের নয়- আলো ঝলমলে শহরের। বিয়ের তিন মাসের মাথায় অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তৃষা এখন হাসপাতালে আর তার স্বামী বিপ্লব নারী নির্যাতনের মামলায় কারাগারে। বিপ্লব উচ্চশিক্ষিত ও সম্পদশালী- তৃষাও। শ্বশুরের কাছে বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব একটি নতুন গাড়িপ্রাপ্তির জন্যে স্ত্রীর উপর ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিল। তৃষার ইঙ্গিতে তার বাবা এ হীন চাপকে উপেক্ষা করে আসছিলেন।

ক. ‘দেনাপাওনা’ গল্পটি লেখকের কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত?
খ. ‘নিরু বাপের মুখ দেখিয়া সব বুঝিতে পারিল’- ব্যাখ্যা করো।
গ. সময়ের পরিবর্তন হলেও গ্রাম কিংবা শহরে সমস্যা আজও একই- উদ্দীপক ও ‘দেনাপাওনা’ গল্পের আলোকে সমস্যাটি চিহ্নিত করো।
ঘ. “বিপ্লবের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোই পারে নিরু বা তৃষাদের করুণ পরিণতি থেকে মুক্তি দিতে।”- আলোচনা করো।

সৃজনশীল ২ঃ 

যৌতুকের বলি এক অসহায় কন্যার আর্তচিৎকার!….. “বাবা তুমি আইসা আমারে নিয়া যাইও, ওরা আমারে মাইরা ফালাইতাছে।” মুঠোফোনে এভাবে গীতারাণী বেঁচে থাকার জন্য আকুতি জানিয়েছিলেন তার বাবা নিতাই চন্দ্র পালের কাছে। আদরের মেয়েকে বাঁচাতে ঠিক তখনই বাড়ি থেকে ছুটে যান বাবা নিতাই চন্দ্র পাল। কিন্তু গীতার শ্বশুরবাড়ি গিয়ে দেখতে পান মেয়ের নিথর দেহ। নিতাই চন্দ্র পালের অভিযোগ, যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। (সংগ্রহ-দৈনিক প্রথম আলো, ৩-৯-১৪) [সি.বো. ১৫]

ক. ‘দেনাপাওনা’ গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
খ. ‘বর্তমান শিক্ষার বিষময় ফল’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের গীতারাণীর সাথে ‘দেনাপাওনা’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘দেনাপাওনা’ গল্পের বিষয়বস্তুর সাদৃশ্য থাকলেও দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা আছে”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

দেনা পাওনা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

এখানে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর গুলো দেওয়া আছে। যাদের উত্তর গুলো সংগ্রহ করা নেই, তারা এখান থেকে উত্তর গুলো পড়ে নিন। পাঠ্য বই থেকে এই সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর গুলো দেওয়া হয়েছে।

উত্তর ১ঃ 

ক. ‘দেনাপাওনা’ গল্পটি লেখকের ‘গল্পগুচ্ছ’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত।

খ. মেয়ের সুখের জন্য নিজের অমানবিক কষ্ট শিকারের বিষয়টি বাবা মুখে প্রকাশ না করলেও তাঁর মুখ দেখে মেয়ে ঠিকই বুঝে গিয়েছিল।

নিরুপমার জন্য পণের বাকি টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তার দরিদ্র পিতা ঘোর সংকটের আবর্তে পতিত হলেন। কোনো উপায় না পেয়ে অল্প অল্প সুদে নানা স্থান থেকে টাকা ধার করে জমাতে লাগলেন। ফলে সংসারের খরচ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো। এতসব দুঃখ-কষ্টের কথা নিরুপমার বাবা মেয়ের কাছে কিছুই বলেননি। কিন্তু বাবার মুখে মলিনতা ও দুশ্চিন্তার ছাপ দেখে মেয়ে ঠিকই বুঝে নিয়েছিল যে বাবা ভালো নেই।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত শহর এবং ‘দেনাপাওনা’ গল্পে উল্লিখিত গ্রাম একই সমস্যায় আক্রান্ত। আর তা হলো-যৌতুকপ্রথা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘দেনাপাওনা’ গল্পে যৌতুকের মর্মস্পর্শী পরিণতির চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। যৌতুকের লেলিহান শিখা কেড়ে নেয় নিরুপমা নামের একটি নিরপরাধ জীবন। নিরুপমার বাবাকে সহ্য করতে হয় সীমাহীন মানসিক নির্যাতন।

উদ্দীপকের তৃষা শহরের বাসিন্দা। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী শ্বশুরের কাছে একটি নতুন গাড়ি দাবি করে। তৃষা বাধা দেওয়ায় তার বাবাও এই অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করেন নি। কিন্তু তৃষার স্বামী বিপ্লবের লালসার কারণে নির্যাতন ভোগ করতে হয় তৃষাকে। উদ্দীপকের বর্ণিত শহরের যৌতুকের এই ভয়াবহতার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে ‘দেনাপাওনা’ গল্পেও। গল্পের প্রেক্ষাপট গ্রামাঞ্চল হলেও সামাজিক ব্যাধি উভয় ক্ষেত্রে একই।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিপ্লবের যৌতুকের লালসার বিরুদ্ধে তৃষার শক্ত অবস্থান এবং সুবিচার নিশ্চিত করার যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা এই ঘৃণ্য সামাজিক ব্যাধির প্রকোপ কমাতে সাহায্য করবে।

দেনাপাওনা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বার্থান্ধ মানুষের অর্থলিপ্সার স্বরূপ তুলে ধরেছেন। যৌতুকের টাকা বাকি পড়ার কারণে শ্বশুরবাড়িতে নিরুপমাকে পদে পদে গঞ্জনা, অবহেলা সহ্য করতে হয়। নিরুপমা একসময় যৌতুকের ঘৃণ্যতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হলেও তার বাবা যথার্থ অবস্থান নিতে পারেননি। সামাজিকভাবে যৌতুকপ্রথার স্বীকৃতি থাকায় এটি প্রতিরোধের পথটিও ছিল প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ। ফলে যৌতুকের বলি হয়ে অকালেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয় নিরুপমাকে।

উদ্দীপকের তৃষার স্বামী বিপ্লব যৌতুক আদায়ের জন্য তৃষার বাবাকে চাপ দেয়। তৃষা তার বিরুদ্ধাচরণ করলে তাকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এ অবস্থায় সুষ্ঠু বিচারের জন্য তারা আইনের আশ্রয় নেয়। ফলে বিপ্লবকে যেতে হয় কারাগারে। ‘দেনাপাওনা’ গল্পের নিরুপমার শ্বশুরবাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া গেলে নিরুপমাকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হতো না।

যৌতুক একটি ঘৃণ্য সামাজিক অপরাধ। যৌতুকের লোভ মানুষকে মনুষ্যত্ববোধ ভুলিয়ে দেয়। ফলে মানুষ হয়ে ওঠে নির্মম। যেমনটা হয়ে উঠেছিল ‘দেনাপাওনা’ গল্পের নিরুপমার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা এবং উদ্দীপকে বর্ণিত তৃষার স্বামী। নিরুপমা ও তৃষা উভয়ের ওপরই নেমে এসেছিল নির্যাতন। এমন জঘন্য মানসিকতার মানুষদের অপকর্ম ঠেকাতে প্রয়োজন ব্যক্তিগত ও সামাজিক প্রতিরোধ। যা গল্পের নিরুপমা ও উদ্দীপকের তৃষার মাঝে লক্ষ করা যায়।

উত্তর ২ঃ

ক. ‘দেনাপওনা’ গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গল্পগুচ্ছ’ থেকে সংকলিত হয়েছে।

খ. ১নং প্রশ্নের (খ)-এর উত্তর দেখো।

গ. যৌতুকের কারণে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের গীতারাণীর সাথে ‘দেনাপাওনা’ গল্পের নিরুপমা চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘দেনাপাওনা’ গল্পটিতে মানুষের যৌতুকলিপ্সু ঘৃণ্য মানসিকতার স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। গল্পের নিরুপমার বাবা বিয়ের সময় যৌতুকের টাকা পুরোপুরি শোধ করতে ব্যর্থ হন। এ কারণে নিরুপমার শ্বশুরবাড়িতে তার বা তার বাবার কোনো মর্যাদা থাকে না। শুধু তাই নয়, শ্বশুরবাড়ির লোকদের নির্মম মানসিক নির্যাতনের শিকার নিরুপমা অকালে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।

উদ্দীপকের গীতারাণী যৌতুকের এক নির্মম বলি। যৌতুকের জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তার ওপর নিষ্ঠুর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। যৌতুকের কারণে প্রায়ই এমন নিরপরাধ গৃহবধূদের জীবনে করুণ পরিণতি নেমে আসে। গল্পের নিরুপমা এবং উদ্দীপকের গীতারাণী তাদেরই প্রতিনিধি।

ঘ. উদ্দীপক ও ‘দেনাপাওনা’ গল্প উভয়ের বিষয়বস্তু যৌতুক সম্পর্কিত হলেও যৌতুক প্রদান ও শাস্তি দাবি করার ক্ষেত্রে ভিন্নতা লক্ষ করা যায়।

‘দেনাপাওনা’ গল্পের নিরুপমার বিয়ে হয় বনেদি এক ঘরে। বিয়ের সময় যৌতুকের নগদ অর্থ বাকি পড়ে যায়। ফলে বিয়ের পর শুরু হয় নিরুপমা ও তার বাবার ওপর মানসিক নির্যাতন। নিরুপমার দরিদ্র বাবা যৌতুকের টাকা জোগাড় করার জন্য বসতবাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে দেন। কিন্তু নিরুপমা তার বাবাকে টাকা দিতে নিষেধ করলে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। আর পরিণতিতে আমরা দেখি নিরুপমাকে অকালে হারিয়ে যেতে।

উদ্দীপকের গীতারাণী যৌতুকপ্রথার এক অসহায় শিকার। যৌতুকের দাবিতে তার ওপর চলে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন। ফলে একপর্যায়ে প্রাণ হারায় সে। গীতারাণীর বাবা নিতাই চন্দ্র পালের কোনোরূপ যৌতুক দেওয়ার প্রমাণ নেই উদ্দীপকে। গীতারাণীর মৃত্যুর পর তিনি মেয়ের মৃত্যুর জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকদের দায়ী করেছেন। তার এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো ‘দেনাপাওনা’ গল্পের নিরুপমার বাবা রামসুন্দরের তুলনায় ভিন্নতর।

গল্পের নিরুপমার বাবা রামসুন্দর মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য মোটা অঙ্কের যৌতুকের দাবি মেনে মেয়ের বিয়ে দেন। যৌতুকের বাকি টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তিনি সর্বস্ব হারান। মেয়ের মৃত্যুর পর নীরবে চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে উদ্দীপকের গীতারাণীর বাবা মেয়ের মৃত্যুর জন্য মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকদের যৌতুকের লোভকে দায়ী করেছেন। অর্থাৎ তিনি তাঁর সন্তান হত্যার বিচার চান। এদিক থেকে উদ্দীপকের দৃষ্টিভঙ্গি গল্পের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

শেষ কথা

আশা করছি এই পোস্ট টি আপনাদের ভালো লেগেছে এবং এখান থেকে দেনা পাওনা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এই রকম আরও ভালো ভালো পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন। এস এস সি শিক্ষা সংক্রান্ত আরও পোস্ট এই ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। পোস্ট টি পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

আরও দেখুনঃ

দেনা পাওনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ১ম গদ্য পত্র এস এস সি

বই পড়া mcq প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ- এস এস সি বাংলা ১ম পত্র

বই পড়া প্রমথ চৌধুরী। বাংলা ১ম পত্র বই পড়া অনুচ্ছেদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *