তাহারেই পড়ে মনে কবিতা এইচ এস সি- পিডিএফ ডাউনলোড

তাহারেই পড়ে মনে কবিতা পড়তে আজকের পোস্ট টি সম্পূর্ণ দেখুন। কবিতাটি লিখেছেন সুফিয়া কামাল। তিনি ২০ জুন, ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন। ব্যাক্তি জীবনে তিনি বুলবুল ললিতকলা একাডেমি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছেন। তাহারেই পড়ে মনে কবিতাটি প্রথমে মাসিক মোহাম্মাদি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

নিচে আমরা এই কবিতাটি সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ করে দিয়েছি। কবিতার ব্যাখ্যা ও তাহারেই পড়ে মনে কবিতার মূলভাব এই পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে। আপনাদের সুবিধার্থে কবিতাটি পিডিএফ ফাইলে শেয়ার করেছি। আপনাদের প্রয়োজনে এটি পিডিএফ ডাউনলোড করতে পারবেন। তো যারা যারা কবিতাটি পড়তে চান তারা নিচে থেকে দেখেনিন।

তাহারেই পড়ে মনে কবিতা

আমরা আপনাদের জন্য  সম্পূর্ণ কবিতাটি দিয়েছি। এই কবিতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন রয়েছে। যেগুলো আগের পোস্টে শেয়ার করেছি। তাছাড়া তাহারেই পড়ে মনে কবিতার mcq প্রশ্নের উত্তর গুলো আমাদের পোস্টে দেওয়া আছে। সেগুলো জানতে চাইলে নিচের লিঙ্ক থেকে দেখেনিবেন। এখন আপনারা সম্পূর্ণ কবিতাটি পড়েনিন।

তাহারেই পড়ে মনে কবিতা
সুফিয়া কামাল

“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
“দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”

“এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম “কেন কবি আজ
এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?”
কহিল সে সুদূরে চাহিয়া-
“অলখের পাথার বাহিয়া
তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান?
ডেকেছে কি সে আমারে? -শুনি নাই,রাখিনি সন্ধান।”

কহিলাম “ওগো কবি, রচিয়া লহ না আজও গীতি,
বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি-এ মোর মিনতি।”
কহিল সে মৃদু মধুস্বরে-
“নাই হ’ল, না হোক এবারে-
আমার গাহিতে গান! বসন্তরে আনিতে ধরিয়া-
রহেনি,সে ভুলেনি তো, এসেছে তো ফাল্গুন স্মরিয়া।”

কহিলাম “ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই?
যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।”
কহিল সে পরম হেলায়-
“বৃথা কেন? ফাগুন বেলায়
ফুল কি ফোটে নি শাখে? পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন?
মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নি সে অর্ঘ্য বিরচন?”

“হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?”
কহিলাম “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”
কহিল সে কাছে সরি আসি-
“কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী-
গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে
রিক্ত হস্তে। তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।”

তাহারেই পড়ে মনে কবিতার মূলভাব

কবি সুফিয়া কামাল প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের রং বদলায়। প্রকৃতিতে বসন্ত এলে, প্রকৃতি অপরূপরূপে সজ্জিত হলে তার ঢেউ মানব মনেও এসে পড়ে।বসন্তে প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য কবিমনে খুশির জোয়ার আনবে, কবিকে ভাবে-ছন্দে-সুরে ফুটিয়ে তুলবেন এটাই প্রত্যাশিত।

কিন্তু কোনো কারণে কবির মনে বসন্তের আগমন কোনো প্রভাব ফেলেনি, বসন্ত কবির হৃদয়কে আন্দোলিত করতে পারছে না। তাঁর দৃষ্টি এখনো শীতের দিকে, শীতকে তিনি কোনোভাবেই ভুলতে পারছেন না।কবি সুফিয়া কামালের সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা ছিলেন স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেন, যাঁর আকস্মিক মৃত্যু ঘটেছে। তিনি সর্বত্যাগী সর্বরিক্ত সন্ন্যাসীর মতো বিদায় নিয়েছেন যা শীতের সঙ্গে তুলনীয়।

যার উৎসাহ-উদ্দীপনায় কবি বর্তমানের একজন সফল কবি যা বসন্তের সঙ্গে তুলনীয়। শীত রিক্তহস্তে চলে যাবার কারণেইবসন্ত এসেছে ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়ে। কিন্তু যে শীত তথা প্রথম স্বামীর কারণেই বসন্ত তথা বর্তমান সফলতার আগমন, সেই শীতকে তিনি কোনো ভাবেই ভুলতে পারছেন না। ফলে প্রকৃতিতে যে বসন্ত তা কবিকে স্পর্শ করছে শীতরূপে। শীতের রিক্ততার হাহাকার যেন কবির জীবনে স্বজন হারানোর বেদনাকেই প্রতিধ্বনিত করে। এ কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের ছায়াপাত ঘটেছে।

তাহারেই পড়ে মনে কবিতার পাঠ পরিচিতি

তাহরেই মনে পড়ে কবিতাটি ১৯৩৫ সালে মাসিক মোহাম্মাদি পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ করা হয়। এ কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ পেয়েছে। সাধারণ ভাবে প্রকৃতির সৌন্দর্য মানবমনের অফুরন্ত আনন্দের উৎস। বসন্ত প্রকৃতির অফুরন্ত সৌন্দর্য যে কবি মনে আনন্দের শিহরন জাগাবে এবং তিনি তাকে ভাবে ছন্দে সুরে ফুটির তুলবেন সেঁতাই প্রত্যাশিতই। কিন্তু কবি মন যদি কোনো কারণে শোকাচ্ছন্ন কিংবা বেদনা ভারাতুর থাকে তবে বসন্ত তার সমস্ত সৌন্দর্য স্বত্বেও কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে পারে না।

এ কবিতায় কবির ব্যক্তি জীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে তার। সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর জীবনে প্রচন্ড শূন্যতা নেমে আসে। তার ব্যক্তি জীবন ও কাব্যসাধনায় ক্ষেত্রে নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণ্নতা। কবি মন আচ্ছন্ন  হয়ে যায় রিক্ততার হাহাকারে।

তাহারেই পড়ে মনে সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

এর আগের পোস্টে আমরা এই কবিতা থেকে কিছু সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর শেয়ার করেছি। আপনারা চাইলে এগুলো দেখেনিতে পারেন। নিচে প্রশ্ন গুলো সংগ্রহ করার জন্য একটি লিঙ্ক দেওয়া আছে। এই লিঙ্ক থেকে দেখেনিনবেন। এখানে সকল বোর্ড প্রশ্ন গুলো পেয়ে যাবেন। তার সাথে কিছু অতিরিক্ত সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আছে। যেগুলো অনুশীলন করলে পরীক্ষার প্রশ্নের সকল উত্তর খুব সহজে লিখতে পারবেন। অনেকে সৃজনশীল প্রশ্ন গুলো পড়তে চাচ্ছিলেন। তারা নিচে থেকে তাহারেই পড়ে মনে কবিতার গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন গুলো নিচে থেকে দেখেনিন।

পিডিএফ 

শেষ কথা

আমাদের সাথে শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আশা করছি এই পোস্ট থেকে আপনারা তাহারেই পড়ে মনে কবিতা পিডিএফ ডাউনলোড করতে পেরেছেন। এই রকম আরও ভালো ভালো পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন। নিচে আপনাদের জন্য শিক্ষামূলক কিছু পোস্ট দেওয়া আছে দেখেনিতে পারেন। ভালোথাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *