তাহারেই পড়ে মনে সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ ডাউনলোড

তাহারেই পড়ে মনে সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর সংগ্রহ করতে আজকের পোস্ট টি সম্পূর্ণ পড়ুন। তাহারেই পড়ে মনে কবিতাটি মাসিক মোহাম্মদি পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ করা হয়। এই কবিতাটি সুফিয়া কামাল লিখেছেন। এই কবিতায় কবির ব্যাক্তি জীবনের দুখ ময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। এই কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন রয়েছে। যেগুলো আপনাদের কাছে নেই। তাই আপনারা আমাদের পোস্ট  থেকে প্রশ্ন গুলো সংগ্রহ করতে পারবেন। পোস্টের নিচে এই কবিতার সকল সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর গুলো পিডিএফ ফাইলে দেওয়া থাকবে। আপনারা চাইলে পিডিএফ ডাউনলোড করতে পারবেন।

তাহারেই পড়ে মনে সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

এখানে সকল বোর্ড প্রশ্ন গুলো পেয়ে যাবেন। তার সাথে কিছু অতিরিক্ত সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আছে। যেগুলো অনুশীলন করলে পরীক্ষার প্রশ্নের সকল উত্তর খুব সহজে লিখতে পারবেন। অনেকে সৃজনশীল প্রশ্ন গুলো পড়তে চাচ্ছিলেন। তারা নিচে থেকে তাহারেই পড়ে মনে কবিতার গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন গুলো নিচে থেকে দেখেনিন।

তাহারেই পড়ে মনে সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল ১ঃ 

যারে খুব বেসেছিনু ভালো
সে মোরে ছেড়ে চলে গেল
যে ছিল মোর জীবন ছায়া
রেখে গেছে শুধু মায়া।
লাগে না ভালো অপরূপ প্রকৃতি
যতই করুক কেউ মিনতি
আমি এখন রিক্ত শূন্য
মন পড়ে রয়েছে তার জন্য
সে দিল মোরে কেমনে ফাঁকি
আমি এখন বড় একাকী।

ক. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
খ. “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”- উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের প্রথম দুচরণে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? আলোচনা কর।
ঘ. উদ্দীপকটি যেন ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবির মর্মবাণীকেই ধারণ করেছে। – তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

সৃজনশীল ২ঃ
শুধু তাকে এবং তাকেই ভালোবেসেছিল আরতি। কিন্তু ছয়মাস হলো সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় সে। তার স্মৃতিগুলো কুড়ে কুড়ে খায় আরতিকে। এদিকে বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। ছেলে ভালো, দেখতে সুদর্শন, পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। পরিবারের সকলে এ ছেলের সাথে তার বিয়ে ঠিক করেছে এবং সকলে চায় আরতি এর সাথে মাঝে মাঝে বেড়াতে যাক। আজ পহেলা ফাল্গুন। তবু বর আদ্রির অনুরোধ ফেলতে পারে না আরতি। রাস্তায় বের হয়ে দেখে চারিদিকে কত উৎসব! কিন্তু আরতি পারছে না সহজ হতে। আদ্রির কাছে বিষয়টি ধরা পড়ল। সে বলল, “অভিমান করেছ? চুপ করে আছ কেন? এমন দিনে তুমি চুপ থাকলে পুরো বসন্তই যে বৃথা হয়ে যাবে।” আরতি মৃদু হেসে উত্তর দেয় “না, বৃথা যাবে কেন! গাছে গাছে ফুলতো ঠিকই ফুটেছে, বসন্তকে বরে নেয়ার জন্য চারদিকে কত আয়োজন। প্রকৃতি কারো জন্য অপেক্ষায় থাকে না, সে চলে নিজের গতিতে।”
ক.  ‘পুষ্পারতি’ শব্দটির অর্থ কী?
খ.  কবি অভিমান করেছেন কি-না এ প্রশ্ন  করার কারণ কী?
গ.  “প্রকৃতি কারো জন্য অপেক্ষায় থাকে না, সে চলে নিজের গতিতে”- ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় এ ভাবের কী দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠেছে?
ঘ.  ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় প্রকৃতির সৌন্দর্য ও কবির মনের অবস্থার মধ্যে কোনটি প্রধান হয়ে উঠেছে বলে তুমি  মনে কর?
সৃজনশীল ৩ঃ

১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে সিভিলিয়ান কেদারনাথ রায়ের সঙ্গে কামিনীর বিয়ে হয়। কেদারনাথ অনেক আগে থেকেই কামিনীর গুণগ্রাহী ছিলেন। আলাে ও ছায়া’ প্রকাশিত হলে তিনি ইংরেজিতে তার এক বিস্তৃত সমালােচনা লেখেন।  কিছুদিন পরে তাঁর জীবনে বেদনার কালাে মেঘ জমে ওঠে। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ঘােড়ার গাড়ি উল্টে গিয়ে আঘাতজনিত কারণে স্বামীও মারা যান। এর পর কামিনীর মেয়ে লীলা এবং ছেলে অশােকের মৃত্যু হয়। ফলে সবকিছু ভুলে থাকার জন্য তিনি আরও বেশি করে সমাজকর্মে জড়িয়ে পড়েন।

ক. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি কী ধরনের কবিতা?
খ. ‘তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোনাে মতে।’- কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির সঙ্গে উদ্দীপকের কামিনী রায়ের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় স্বামীর মৃত্যু শােকে কবি প্রকৃতি ও সমাজবিমুখ হলেও উদ্দীপকের কামিনী রায় অতিমাত্রায় সমাজমুখী।”- মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ কর।

তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল  প্রশ্নের উত্তর

উত্তর ১ঃ

ক.তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি প্রথম ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

খ. “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা”- উক্তিটি দ্বারা সানন্দে বসন্ত না করে তার দিকে কবির মুখ ফিরিয়ে থাকার কথা বোঝানো হয়েছে।প্রতি বছর বসন্তের আগমন ঘটে। গাছে গাছে ফুল ফোটে, বিচিত্র রঙের ফুলে ফুলে শাখা ভরে যায়। মাধবী কুঁড়ি সুগন্ধ ছড়িয়ে দেয় চারদিকে। প্রকৃতি বিচিত্র সাজে সজ্জিত হয়ে ফুল ও তার সৌরভ উপহার দিয়ে বসন্তকে বরণ করে নেয়। কবি ভক্তের অনুযোগ, বসন্তকে কবি বরণ না করায়, বসন্তের আবেদন যেন গুরুত্ব হারিয়েছে। কবিভক্ত বুঝতে পারছেন না, কেন কবি বসন্তের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ঋতুরাজকে উপেক্ষা করে কবি যেন তাকে তীব্র ব্যথা দিয়েছেন।

গ. উদ্দীপকের প্রথম দুচরণে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার বিষাদময় রিক্ততার হাহাকার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার বসন্ত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কবিমনে আনন্দের শিহরন জাগাবে, তিনি তাকে ভাবে ছন্দে সুরে ভরিয়ে তুলবেন সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু কবিমন যদি কোনো কারণে শোকাচ্ছন্ন বা বেদনা ভারাতুর থাকে তবে তা কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে পারবে না। কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ত ও বিষণ্ণ ছবি। তাঁর মন গভীরভাবে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাঁর কণ্ঠ নীরব। শীতের করুণ বিদায়কে কবি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। আর তাই বসন্তও তাঁর মনে কোনো সাড়া জাগাতে পারছে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তাঁর প্রথম স্বামী তাঁর কাব্য সাধনার প্রেরণা-পুরুষ ছিলেন। তাঁরই আকস্মিক মৃত্যুতে কবির অন্তরে যে বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার সুর বেজে উঠেছে, তারই সুস্পষ্ট প্রভাব ও ইঙ্গিত এ কবিতায় বিধৃত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশেও রয়েছে আকস্মিক বিচ্ছেদ-বেদনার করুণ হাহাকার।

কেননা, কবি যাকে ভালোবেসেছিলেন। সে ছিল তাঁর জীবন-ছায়া, সে শুধু মায়াভরা স্মৃতি রেখে তাঁর জীবন থেকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে। তাঁর জীবন এখন ফাঁকা, তিনি এখন একাকী। সব সৌন্দর্যবোধ, সব কিছুর গুরুত্ব এখন ম্লান হয়ে গেছে। তাই অপরূপ প্রকৃতির রূপের প্রতি তাঁর কোনো আকর্ষণ নেই। কেননা, সমস্ত মন পড়ে আছে কেবল তাঁরই জন্য। কাজেই একথা বলা যায় যে, উদ্দীপকের প্রথম দুরচণে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার সুর প্রকাশ পেয়েছে।

ঘ. “উদ্দীপকটি যেন ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার মর্মবাণীকেই ধারণ করেছে”- কথাটা যথার্থ ও যৌক্তিক। কেননা উদ্দীপক এবং ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার মর্মবাণী একই।

প্রিয়জন হারানোর বেদনা বড়ই মর্মান্তিক। যে প্রিয়জন কষ্ট-দুঃখে সমব্যথী, উৎসাহ-অনুপ্রেরণায় উদার, প্রেম-ভালোবাসায় অতুলনীয়, বন্ধুত্বে অনুপম, সেই প্রিয়জনকে কখনো বিস্মৃত হওয়া যায় না। তাঁকে হারিয়ে জীবন হয়ে যায় রিক্ত-শূন্য-মূল্যহীন।

উদ্দীপকে এবং ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় প্রিয়জন হারানোর বিষণ্ণ বেদনার রিক্ততার হাহাকার ধ্বনিত হয়েছে। এটাই এ দুটোর মর্মবাণী বা মূলসুর। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি যাকে ভালোবেসেছিলেন, সে তাঁর জীবন থেকে চলে গেছে চিরদিনের মতো। শুধু রয়ে গেছে মায়াভরা স্মৃতি। অপরূপ প্রকৃতি সৌন্দর্য তাঁর ভালো লাগে না। রিক্ত শূন্য একাকী জীবনে তাঁর স্মৃতিটুকুই এখন সান্ত্বনা।

একইভাবে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবি তাঁর স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনকে হারিয়ে রিক্ত ও শূন্য হয়ে গেছেন। কেননা, তিনিই ছিলেন তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও প্রেরণাদাতা। এর ফলে তাঁর সাহিত্য সাধনায়ও নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণ্ণতা। কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে যায় রিক্ততার করুণ হাহাকারে।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, উদ্দীকপটি ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার মর্মবাণীকেই ধারণ করেছে।

উত্তর ২ঃ

ক.  ‘পুষ্পারতি’ শব্দটির অর্থ হলো ফুলের বন্দনা বা নিবেদন।

খ. কবি বসন্ত উপলক্ষে কোনো কবিতা না লেখার কারণে তাকে এ প্রশ্ন করা হয়েছে।ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে স্বভাবসিদ্ধ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না কবি। নেই তার পুষ্পসাজ কিংবা রচনা করছেন না কোনো কবিতা। বসন্তের প্রতি কবির ঔদাসীন্যের কারণ জিজ্ঞেস করলে কবি উত্তরে বলেন যে, প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন তার বন্দনাগীত রচনার অপেক্ষা করে নি। তিনি বন্দনাগীত রচনা না করলেও ইতোমধ্যে প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটেছে এবং যথানিয়মেই ঘটেছে। বসন্তকে ফাল্গুন গাছে গাছে ফুল ফুটিয়ে, পুষ্পমুকুলের গন্ধে বাতাস মুখরিত করে বরণ করে নিয়েছে। কবিমনের দুঃখের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বসন্ত তার আগমনকে বিলম্বিত করে নি, যথানিয়মে সে এসেছে। তাই কবি নির্লিপ্ত থাকলেও তাতে বসন্তের কিছু আসে-যায় না। বসন্তের এই উদাসীনতা কবিকে আহত করেছে কি-না এখন সে প্রশ্নই দেখা দিয়েছে। না-হলে তিনি হয়তো বসন্তকে বরণ করে কোনো কবিতা লিখতেন।

গ. বসন্তে কবিমন বিষণ্ণ। তাই সে কোনো কবিতা লিখে নি। কিন্তু প্রকৃতি তার আপন গতিতে চলে। উদ্দীপকে উল্লিখিত লাইনে প্রকৃতির সে ধর্মের কথা বলা হয়েছে।

সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সে তার গতিতে বয়ে যায়। প্রকৃতির নিয়ম মেনে শীতের পরে বসন্ত আসে। তাতে কার মনে কী অনুভূতি হলো সেটা বিবেচ্য নয়। কেউ কেউ হয়তো কোনো দুঃসহ স্মৃতির কারণে প্রকৃতির এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না। কিন্তু তাতে প্রকৃতির কিছু আসে-যায় না। প্রকৃতির চলার স্বতন্ত্র পথ রয়েছে। প্রকৃতি সেই পথে চলে, সেই নিয়মে আবর্তিত হয়। শত বাধা দিলেও প্রকৃতি শুনবে না। কারো কোনো মান অভিমান প্রকৃতির কাছে বিবেচ্য নয়।

এই ভাবটির বেশ কিছু দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠেছে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায়। এখানে দেখা যায় কবি বসন্তের আগমনে কোনো পুলক অনুভব করছেন না, বসন্তকে বরণ করে নেয়ার জন্য তার কোনো প্রস্তুতি নেই। কিন্তু নানা পুষ্প, পত্রে, মঞ্জুরীতে প্রকৃতি ঠিকই বরণ করে নিয়েছে বসন্তকে। কবির মন শীতের শোক ভুলতে না পারলেও প্রকৃতি ঠিকই শীতকে ভুলে বসন্তকে বরণ করে নিয়েছে। সুতরাং, বলা যায়, প্রকৃতি কারো জন্য অপেক্ষায় থাকে না, সে চলে নিজের গতিতে।

ঘ.  ‘তাহাড়েই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির মনের বিষণ্ণতাই প্রধান হয়ে উঠেছে।

প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনের আগেই কবির প্রিয়তম স্বামী চলে গেছে অনন্ত পারাপারে, পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে। ফলে প্রকৃতিতে বসন্তের আবির্ভাবের পূর্বেই কবির মনকে গ্রাস করছে শীতের স্থায়ী রিক্ততা। তাই বসন্তের সাড়ম্বর আবির্ভাব কবিকে ভাবোচ্ছ্বাসে আপ্লুত করতে পারে নি।

বসন্ত এসেছে ঠিকই, কিন্তু মাঘের পুষ্পশূন্য রিক্ততার কথা কবি আদৌ ভুলতে পারেন নি। প্রকৃতপক্ষে শীতের নিঃস্বতার মাঝে কবি তার নিঃসঙ্গ জীবনের সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন।

 কুহেলি উত্তরী তলে চলে যাওয়া মাঘের বিষণ্ণতা আর অনন্ত পরপারে চলে যাওয়া তার প্রিয়জনের বিয়োগব্যথা একই সুতোয় গাঁথা। তাইতো তিনি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসী বলেছেন। মাঘের সন্ন্যাসীরূপী শীতের অপসৃয়মান মূর্তিটি কবির ভাষাকে স্তব্ধ করেছে, তাঁকে করেছে রক্তাক্ত। কবির এই হাহাকারের পাশাপাশি প্রকৃতিতে বসন্ত আগমনকালের সৌন্দর্য-বর্ণনা বিবেচনা করলে কবির হাহাকার বেশি করে আঘাত করে পাঠক হৃদয়ে। প্রকৃতির বসন্ত-সজ্জার আনন্দ নয়, বরং কবির রিক্ততাই পাঠক হৃদয়কে অধিক আপ্লুত করে। তাই বলা যায়, আলোচ্য কবিতায় বসন্ত প্রকৃতির সৌন্দর্যের চেয়ে কবির মনের রিক্ত হাহাকারই প্রধান হয়ে উঠেছে।

উত্তর ৩ঃ

ক. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি সংলাপধর্মী ও বিশেষ নাট্য গুণসম্পন্ন কবিতা।

খ.  কবির কাব্যসাধনার প্রেরণা-পুরুষের আকস্মিক মৃত্যুতে তার হৃদয় গভীর শােকে আচ্ছন্ন বিধায় কবি তাকে কোনাে মতেই ভুলতে পারেন না। এ বিষয়টি বােঝাতেই তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির ব্যক্তিগত জীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। তিনি তাঁর প্রিয় স্বামীকে হারিয়ে গভীর শােকে প্রকৃতির নানা পরিবর্তনও অনুধাবন করতে পারেন না। বসন্ত এলেও তার হৃদয়জুড়ে শীতের রিক্ততা বিরাজমান। তার ভক্তরা বসন্তগীত রচনায় অনুপ্রাণিত করলে তিনি তাতে সাড়া দিতে পারেন না। কারণ প্রিয়জন হারানাের ব্যথা তিনি কোনাে মতেই ভুলে থাকতে পারেন না।

গ. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির সঙ্গে প্রিয়জন হারানাের বেদনার দিক থেকে উদ্দীপকের কামিনী রায়ের মিল রয়েছে।

তারা উভয়েই স্বামীর মৃত্যুতে গভীরভাবে শােকাহত। প্রিয়জন হারানাের বেদনা মানুষ সহজে ভুলতে পারে না। জাগতিক নানা কাজের মধ্যেও তারা প্রিয়জনের কথা স্মরণ করে ব্যথিত হয়। তাদের সুখ-স্মৃতি অনুভব করে ।

See also আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির প্রিয়জন হারানাের বেদনার সঙ্গে উদ্দীপকের কামিনী রায়ের স্বামী হারানাের বেদনা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় কবির স্বামী যেমন তার প্রেরণাদাতা তেমনই কামিনী রায়ের স্বামীও তার সমস্ত কাজের প্রেরণাদাতা। তাদের উভয়ের বেদনাবােধও অভিন্ন। স্বামী দুর্ঘটনায় মারা গেলে কামিনী রায় অনেক কষ্ট পান।

‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবিও স্বামীর জন্য গভীর বেদনা অনুভব করেন। প্রকৃতির জাগতিক পরিবর্তন, ফুলে ফুলে সাজানাে বসন্তও তাঁকে মুগ্ধ করতে পারে না। তার হৃদয়ে শীতের শূন্যতা বিরাজ করে। স্বামীর অকস্মাৎ মৃত্যুতে কামিনী রায়ের মতাে কবিও প্রচণ্ড আঘাত পান। প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনেও তিনি উদাসীন থাকেন। এভাবে প্রিয়জন হারানাের বেদনার দিক থেকে উদ্দীপকের কামিনী রায়ের সঙ্গে আলােচ্য কবিতায় কবির সাদৃশ্য বিদ্যমান।

ঘ.  “তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় স্বামীর মৃত্যু শােকে কবি প্রকৃতি ও সমাজবিমুখ হলেও উদ্দীপকের কামিনী রায় অতিমাত্রায় সমাজমুখী।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রী গভীরভাবে বেদনাহত হয়। এই বেদনায় কেউ প্রকৃতি ও সমাজবিমুখ হয়ে পড়ে। আবার কেউ আরও বেশি সমাজমুখী হয়ে ওঠে। নিজের কষ্ট ভুলে থাকার জন্য কেউ সমাজসেবায় আত্মনিয়ােগ করে। আবার কেউ বেদনাহত হয়ে দিন কাটায়।

তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির স্বামী আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীই ছিল তাঁর কাব্যসাধনার প্রেরণা-পুরুষ। কবি যথারীতি গীত রচনা করে বরণ করেন ঋতুরাজ বসন্তকে। স্বামীর শােকে আচ্ছন্ন থাকার কারণে ভক্তের অনুরােধ সত্ত্বেও তিনি বসন্ত সংগীত রচনা করতে পারছেন না।

উদ্দীপকের কামিনী রায়ের স্বামীও আকস্মিকভাবে স্ত্রীকে ছেড়ে পরপারে চলে যান। স্বামী হারানাের বেদনা অতি তীব্র বলেই তিনি সব সময় তা ভুলে থাকতে চান। আর এ জন্যই তিনি আরও বেশি করে সমাজকর্মে জড়িয়ে পড়েন।

‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবি প্রিয় স্বামী হারানাের বেদনায় তাঁর ভক্ত ও প্রকৃতিবিমুখ হয়ে পড়েন। তিনি প্রকৃতির আনন্দে মেতে উঠতে পারেন না, সব সময় তার স্বামীর কথা মনে পড়ে। অপরদিকে কামিনী রায় স্বামী হারানাের শােক ভুলে থাকতে আরও নিবিড়ভাবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়ােগ করেন। এ কারণেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।

শেষ কথা

 আমাদের সাথে শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।  আশা করছি এই পোস্ট থেকে আপনারা তাহারেই পড়ে মনে সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পিডিএফ ডাউনলোড করতে পেরেছেন। এই রকম আরও ভালো ভালো পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন। নিচে আপনাদের জন্য শিক্ষামূলক কিছু পোস্ট দেওয়া আছে দেখেনিতে পারেন। ভালোথাকবেন, সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *