বিজয় দিবসের কবিতা আবৃতি পিডিএফ ডাউনলোড- বিজয় দিবস

বিজয় দিবসের কবিতা এই পোস্টে দেওয়া আছে। ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। এই দিনকে কেন্দ্র করা বাংলাদেশে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন স্কুল বা কলেজে বিজয় দিবস উপলক্ষে কবিতা আবৃতি, রচনা প্রতিযোগিতা ও আরও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এই পোস্টে আমি বিজয় দিবস নিয়ে সুন্দর সুন্দর কবিতা দিয়েছি। কবিতা গুলো আপনারা আবৃতি করতে পারবেন।

নিচের দিকে আপনাদের জন্য কবিতা আবৃতি গুলো দেওয়া আছে। তো যারা কবিতা আবৃতি করার জন্য ১৬ই ডিসেম্বর উপলক্ষে ভালো ভালো কবিতা সংগ্রহ করতে চান তারা আজকের পোস্ট টি সম্পূর্ণ পড়ুন। এবং এই পোস্ট থেকে কবিতা গুলো পিডিএফ সংগ্রহ করুন। তাহলে পোস্ট টি শুরু করা যাক।

বিজয় দিবসের কবিতা

১৬ ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এখানে কিছু কবিতা দেওয়া আছে। আপনারা যারা কবিতা আবৃতি করতে চান তারা নিচে থেকে কবিতা গুলো পরেনিন। কবিতা গুলো অনেক ছোট ছোট । নিচে কবিতা আবৃতি পিডিএফ ফাইলে দেওয়া আছে।

বিজয় ডিসেম্বর
( সিফাত আহমেদ )

লাল সবুজের স্মৃতি ঘেড়া নিশান আমার উড়ে।
কিনেছিলাম রক্ত দিয়ে বিজয় ডিসেম্বরে।
মাগো তোমার চোখের জলে,
জয় বাংলা ধ্বনি তুলে,
হাজার ছেলে প্রাণ দিল ঐ নতুন আশার ভোরে।
রক্ত দিয়ে কেনা এই বিজয় ডিসেম্বরে।

মাগো তুমি হায়েনা ভয়ে কাঁদছ দেখে তাই।
তোমার ছেলে ঘর ছেড়েছে তোমায় দিতে ঠাঁই
বিশ্বমাঝে উচ্চাসনে,
পাক বাহিনীর নির্যাতনে,
আর হবেনা শোষন এবার তোমার আপন ঘরে।
রক্ত দিয়ে কেনা এই বিজয় ডিসেম্বরে।

বিজয়ের দিন
( তাসনিয়া আহমেদ )

বাংলাদেশে পাক-শাসনের আসন যেদিন টলে,
সেদিনটাকে আজকে সবাই ‘বিজয় দিবস’ বলে।
বিজয় কিন্তু অনেক দামী; সহজলভ্য নয়।
মুক্তিসেনা বিজয় আনে জয় করে সব ভয়।

লাল সবুজের পতাকাটার আজকে খুঁটি শক্ত;
আনতে সেটা,বীর সেনারা দিয়েছিলো রক্ত।
বাংলা মায়ের বীর ছেলেরা ভয় পায়না মোটে।
তাদের ত্যাগে মোদের মুখে বিজয় স্লোগান ফোটে।

বিজয় দিবস রক্তে ধোয়া,বীর শহীদের স্মৃতি।
বিজয় নিয়েই আজকে লেখা-কবিতা আর গীতি।
বিজয় মাখা ফুলে-পাতায়,বিজয় সবুজ ঘাসে।
বছর ঘুরে এদিন যেন বারে বারে আসে!

১৬ ই ডিসেম্বর
( তানজিম এ আল আমিন )

বছর ঘুরে আবার এলো ষোলই ডিসেম্বর
বিজয় গানে উঠলো মেতে মানুষ আপামর।

একাত্তর এর সেই সে বিজয়
করলো স্বাধীন সকল হৃদয়
শোষন ত্রাসন করলো বিদায়
করলো নতুন সূর্য উদয়

সেই সূচনায় আমরা সবাই স্বাধীন নিরন্তর,
বছর ঘুরে আবার এলো ষোলই ডিসেম্বর।

স্বাধীনতার ছড়া
আকরাম সাবিত

যুদ্ধ করেছিলাম বলেই
পেলাম স্বাধীনতা-
হাসতে পারি
ভাসতে পারি

বলতে পারি কথা।
পড়তে পারি
লড়তে পারি
অনেক কিছু করতে পারি ভাই-

যুদ্ধে শামিল হয়েছিলাম তাই।
ইচ্ছে হলেই এক বিকেলে
ফাগুন এলে
পালক মেলে

বিজয় দিবসের কবিতা আবৃতি

এখানে বিজয় দিবসের কবিতা আবৃতি গুলো দেওয়া আছে। যারা কবিতা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাচ্ছেন, তারা নিচে দেওয়া কবিতা গুলো আবৃতি করুন। কবিতা গুলো দেখেনিন।

বিজয় আসে
শরিফ আহমাদ

একাত্তরে লড়াই যখন শুরু–
বীর বাঙ্গালি জাগে
ছোটে সবার আগে
জালিমের বুক কাঁপে দুরুদুরু ।

তুমুল লড়াই চলে দিনে রাতে–
পোড়ে কত বাড়ি
কাঁদে শিশু নারী
মুক্তিযোদ্ধা থাকে সবার সাথে ।

পাকহানাদার হটে তখন পিছু–
বিভিন্ন কৌশলে
আটকে ইঁদুর কলে
রাজাকার ও সঙ্গে ছিলো কিছু ।

লাখ শহীদের রক্ত নদী ঝরে–
নয়টি মাসের শেষে
সূর্য ওঠে হেসে
বিজয় আসে বাংলার ঘরে ঘরে ।

খোকার জন্য
শরিফ আহমাদ

লড়াই শুরুর প্রথম দিকে
বের হয়েছে খোকা
মাকে দিয়ে ধোঁকা ।
বলে গেছে খেলা শেষে

আসবো‌ দ্রুত ফিরে
ভালোবাসার নীড়ে ।
কিন্তু খোকা আর আসেনি
মা-টা খোকার শোকে

আজ দেখে না চোখে ।
পাগল হয়ে ঘুরে বেড়ায়
খোকার তালাশ করে
আয় খোকা আয় ঘরে ।

মুক্তিযোদ্ধা দাদু
শরিফ আহমাদ

আমার দাদুর অনেক বয়স
মুক্তিযোদ্ধা তিনি
তার নিকটে ঋণী
গ্রামের সকল পুরুষ এবং নারী

তাকে নিয়ে গর্ব করতে পারি ।
একাত্তরে পাকহানাদার
দাদুর ভয়ে পালায়
হাজারো গ্রাম জ্বালায়

পাখির মতো মানুষ মারে কত
মুক্তিযোদ্ধা দাদু হন না নত ।
জীবন বাজি রেখে তিনি
যুদ্ধ করতে নামেন

যুদ্ধ শেষে থামেন
বিজয় নিয়ে ফিরে আসেন ঘরে
ঐতিহাসিক ষোলো ডিসেম্বরে ।
বুক ফুলিয়ে চলেন তিনি

আছেন এখন ভালো
চোখে-মুখে আলো
ব্যস্ত থাকেন দেশের সকল কাজে
এমন দাদু অনেক এই সমাজে ।

স্বাধীনতা
চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

স্বাধীন হয়েছি একাত্তরে
মুক্তি পাইনি মাগো
দস্যি ছেলেরা অাবার তোমরা
বীরের বেশে জাগো।

খুন হয়ে যায় দিন দুপুরে
মানুষেরা হয় গুম
সব জিনিষের দাম বাড়াতে
হারায় চোখের ঘুম।

চিকিৎসাতে ব্ড্ড ডাকাতি
অামরা দিশেহারা
মানবতা আজ ঢুঁকরে কাঁদে
দেয় না বিবেক সাড়া

১৬ ডিসেম্বর কবিতা
ফারহান বিল্লাহ

তপ্ত গরম
যুদ্ধ চরম
যেই দিনে ,
গর্জে ওঠে লক্ষ হাত

পেতে দিল বক্ষ হাত ।
যোদ্ধা বেশে
যুদ্ধ শেষে
তোমরা যারা রাঙলা দেশ

বিজয় দিয়ে বাংলাদেশ ।
করছি বরণ
করছি স্মরণ
এই দিনে

বিজয় দিবস উপলক্ষে ছোটদের  কবিতা

এখানে বিজয় দিবসের জন্য ছোটদের কবিতা দেওয়া আছে। ছোটরা বিজয় দিবসের দিন কবিতা আবৃতি করে থাকে। তাদের জন্য এখানে ছোট কবিতা গুলো দেওয়া আছে। এই কবিতা গুলো ছোটরা খুব সহজেই আবৃতি করতে পারবে।

সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা
পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে
পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে
রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল

জোয়ার এসেছে জন-সমুদ্রে
রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল।।
বাঁধন ছেঁড়ার হয়েছে কাল,
হয়েছে কাল, হয়েছে কাল।।

শোষণের দিন শেষ হয়ে আসে
অত্যাচারীরা কাঁপে আজ ত্রাসে
রক্তে আগুন প্রতিরোধ গড়ে
নয়া বাংলার নয়া শ্মশান, নয়া শ্মশান।

আর দেরি নয় উড়াও নিশান
রক্তে বাজুক প্রলয় বিষাণ
বিদ্যুৎ গতি হউক অভিযান
ছিঁড়ে ফেলো সব শত্রু জাল, শত্রু জাল।

স্বাধীনতার ঋণ
-রওশন মতিন

বিজয় রথে আসাদের শার্টে উড়িয়ে নিশান,
দুঃশাসনকে রুখে দিতে প্রতিবাদের ঐক্যতান।
এদেশটা কার, উত্তাল বাংলা জাগ্রত জনতার,
বীর ইসা খাঁ, সূর্যসেন, তিতুমির আর অগ্নিবীণার।

অকুতোভয় বঙ্গবন্ধু মুক্তচিত্ত অটল দীপ্ত,
বজ্রকণ্ঠে মুক্তির দিশা, স্বাধীনতার জন্য ক্ষিপ্ত।
যে রোদ্দুরে দস্যি ছেলে তেপান্তরে উড়ায় ঘুড়ি,
অবাক চোখে তাকিয়ে দ্যাখে, মুক্ত ডানার উড়াউড়ি,

সে কি জানে লাল-সবুজের এগিয়ে চলার বিজয় গাঁথা,
তার বুকে কি মেলছে ডানা লাল-সবুজের স্বাধীনতা।
দিন কি কেবল বদলে যাওয়া দিন বদলের দিন,
এই আলোতে উদ্ভাসিত বিজয় দীপ্ত স্বাধীনতার ঋণ।

কবিতা

লাল সবুজের স্মৃতি ঘেরা নিশান আমার উড়ে।
কিনেছিলাম রক্ত দিয়ে বিজয় ডিসেম্বরে।
মাগো তোমার চোখের জলে,
জয় বাংলা ধ্বনি তুলে,

হাজার ছেলে প্রাণ দিল ঐ নতুন আশার ভোরে।
রক্ত দিয়ে কেনা এই বিজয় ডিসেম্বরে।
মাগো তুমি হায়েনা ভয়ে কাঁদছ দেখে তাই।
তোমার ছেলে ঘর ছেড়েছে তোমায় দিতে ঠাই

বিশ্বমাঝে উচ্চাসনে,
পাক বাহিনীর নির্যাতনে,
আর হবেনা শোষণ, এবার তোমার আপন ঘরে।
রক্ত দিয়ে কেনা এই বিজয় ডিসেম্বরে।

বিজয় দিবসের উক্তি

জীবনে বিজয়ের জন্য, আমাদের লক্ষ্যতে মনোনিবেশ করতে হবে।
– ল হোল্টজ

যে ব্যক্তি লড়াই বন্ধ করতে অস্বীকার করে তার পক্ষে সর্বদা বিজয় সম্ভব হয়।
– নেপোলিয়ন হিল

বিজয় সবচেয়ে ধৈর্যশীল। – নেপোলিয়ন বোনাপার্ট”
“বিজয় কেবল তাদের তৈরির জন্য আসে, এবং এটি গ্রহণের জন্য।
– টম ক্ল্যান্সি

বিজয়ী যোদ্ধারা প্রথমে জিতে এবং তারপরে যুদ্ধে যায়, পরাজিত যোদ্ধারা প্রথমে যুদ্ধে যায় এবং তারপরে জয়ের চেষ্টা করে।
– সান তজু

আপনার প্রথম বিজয় আপনার সুখ খুঁজে পাওয়া এবং আপনার দ্বিতীয় বিজয় অন্যের সুখ খুঁজে পাওয়াতে হয়।
– জগদীশ কুমার

পরাজয়ের বিরুদ্ধে জয় রক্ষার জন্য বিজয়ী আইন তৈরি করেন।
– টোবা বিটা

শেষ কথা

আশা করছি আমার দেওয়া এই কবিতা গুলো আপনাদের ভালোলেগেছে এবং এই পোস্ট থেকে বিজয় দিবসের কবিতা আবৃতি  সংগ্রহ করতে পেরেছেন। আজকের  এখানেই শেষ। এই রকম আরও ভালো ভালো পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকবেন। নিচে থেকে বিজয় দিবস নিয়ে আরও কিছু পোস্ট দেওয়া আছে। সেগুলো দেখেনিতে পারেন। আমাদের সাথে শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

See Also:

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা বার্তা, বাণী এবং ব্যানার ডাউনলোড

বিজয় দিবসের উক্তি, বাণী, ফেসবুক স্ট্যাটাস এবং বিজয় দিবসের কবিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *